আল্লাহর কাছে আসার গল্প..........😍 - All Teach BD. বাংলাদেশের সকল শিক্ষণীয় বিষয় এর সমাহার

Header Ads

আল্লাহর কাছে আসার গল্প..........😍





এই যুগের আর দশটা মেয়ের মত ফ্যাশনেবল না হলেও তার সাথে খাপ খাইয়ে চলা একজন মেয়ে ছিলাম।
.
ফ্যামিলিতে ইসলামিক অনুশাসন নেই। শালীনতা বজায় রেখে চলাই ছিল মুখ্য। জাহেলি যুগের ছোয়ায় হারাম সম্পর্কেও জড়িয়ে গিয়েছিলাম। আল্লাহকে ডাকতাম বিপদে পড়লে। আর বন্ধু-বান্ধুবীদের আড্ডা ছিল নিত্যদিনের ব্যাপার।
.
দিনের পর দিন যখন এভাবে অতিবাহিত হচ্ছিল সেখানে আমার এক বন্ধু আমাকে নামাজ পড়ার জন্য দাওয়াত দিত। ভুল-শুদ্ধ বুঝাতো। আজ না কাল, কাল না পরশু, এই ওয়াক্ত মিস হয়েছে কাল ঠিকি পড়বো- এসব অযুহাতে নামাজ মিস দিতাম। নামাজটাকে মনে হত বিশাল ভারী কিছু।
.
একদিন 'নাজনীন আক্তার হ্যাপী' আপুর আইডিতে গিয়ে দেখি তিনি দ্বীনের পথে চলে এসেছেন! তার ওয়ালের লেখাগুলো আমাকে অনুপ্রেরনা জোগায়। তাছাড়া আমার বন্ধুর দাওয়াত আর আল্লাহর হেদায়াতে আমার ভিতর অনেক পরিবর্তন আসে।
.
এই যুগের একটা মেয়ে বা ছেলের আল্লাহর কাছে আসার গল্পটা খুব সহজ হয়না। আমারো হয়নি।
.
হুজুর হুজুর বলে খুব কাছের মানুষগুলোও টিটকারি করেছে। আব্বুর সাথে খুব একটা ফ্রি না হওয়ায় তেমন কথা বলিনা। সেখানে আব্বু আমার নিয়মিত নামাজ দেখে আমাকে ডেকে বলে-'বন্ধুদের ভেতর কেউ কি ইসলাম নিয়ে কথা বলে?', 'জঙ্গীবাদের শুরু কিন্তু বন্ধুবান্ধব থেকেই হয়!' আমি রীতিমত অবাক হয়ে হাসব নাকি কাঁদব কিছু বুঝে উঠছিলাম না। তবু আল্লাহই তার বান্দাকে কবুল করে নিয়েছেন তাই পথ সহজ হয়েছে, কারো কথায় কান না দিয়ে নিজের ধর্মকে বেশি বেশি জানা শুরু করলাম।
.
মা, বোনেরা যেখানে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে সেখানে নিজেকে বোরকায় আবৃত করা নিজেকে খুব কষ্টের হলেও আল্লাহর ভালোবাসায় নিজেকে সুন্দর করছিলাম প্রতিনিয়ত।
- এত সুন্দর মুখ ঢেকে রাখছিস কেন?
- কিরে তোর এই অবস্থা কেন?
- দেখছিস রাস্তায় তোর চেয়ে বড় লোকটা তোকে আন্টি ডাকলো!
- অনুষ্ঠানে যাবি তাতে এত হুজরাতির কি দরকার?
- নামাজ পড়ার জন্য ঘরের ছবি খোলার কি দরকার, লাগলে ডাইনিং রুমে নামাজ পড়! এগুলো ছিল রেগুলার কথা।
.
হাজার চাপা কষ্টের মাঝেও কাউকে কিছু বলতাম না, মাঝে মাঝে বুঝাতাম বুঝত না। কিন্তু একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ি কারন আমি কোন ভুল করলে তা আল্লাহ কোন না কোনভাবে ধরিয়ে দেন। আল্লাহর কাছে আসার নতুন কোন উপায় করে দেন ।
.
বন্ধু বান্ধব ছাড়তে আইডি ডিএক্টিভ করে দেই, বাসা থেকে তেমন বের হইনা, গান বাজনা ছেড়ে দিয়েছি, হিজাব, নেকাব ছাড়া বের হইনা, আলহামদুলিল্লাহ ৫ওয়াক্ত নামাজ পড়ি!এগুলো কোনটাই এখন চাপ নয়, যেন আমার আত্মা এটাই চাচ্ছিল এতদিন কিন্তু তাকে আমি দেইনি।
.
আমার নবিজি (সা.) আর আল্লাহর ভালোবাসায় সিক্ত হতে নবিজির সীরাহ, কোরআন, সুন্নাহ আর কেয়ামাত দিবসের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে সময় দেই। সুন্দর সুন্দর জামা নয়, বিলাসি জীবন আর কাড়ি কাড়ি সার্টিফিকেট না; একটা সুন্দর আখেরাতের স্বপ্ন দেখি।
.
আল্লাহ তা'য়ালা বান্দার শরীরে একটা কাটা বিধলেও তার প্রতিদানে গুনাহ ঝরিয়ে ফেলেন। কষ্ট আসবেই কারন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত মোহাম্মদ (স:) এর উপরেও অনেক কষ্ট এসেছিল। তাই আল্লাহর কাছে কষ্টের মাধ্যমেই আমি খুব কাছে যেতে পারবো ইনশাল্লাহ!
.
সবশেষে আমার নফসকে কন্ট্রোল করার জন্য সবসময় এই আয়াতটা স্মরন করি____
"কেউ অনু পরিমান সৎকর্ম করলে ও তা সে দেখতে পাবে । আর কেউ অনু পরিমান অসৎকর্ম করলে তাও সে দেখবে"।
(সূরা আল-যিলযাল, আয়াত ৭-৮)
.
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুক। তার প্রিয় বান্দাদের মাঝে আমাদের সামিল করুক।আমিন।
.
#জাহিলিয়াত_ছেড়ে_দ্বীনে_ফেরার_গল্প
#আল্লাহর_কাছে_আসার_গল্প
___

No comments

Powered by Blogger.