একজন আরব শেখের মহানুভবতা - All Teach BD. বাংলাদেশের সকল শিক্ষণীয় বিষয় এর সমাহার

Header Ads

একজন আরব শেখের মহানুভবতা

একজন আরব শেখের মহানুভবতা। হাদিসের গল্প।


তখন স্পেনে মুসলিম শাসন চলছে। আমীর আবদুর রহমান স্পেনের শাসনকর্তা। জনৈক আরব শেখ কর্ডোভার এক গোত্রের সরদার ছিলেন। তার বিপুল ধনসম্পদ ও জমিজমা ছিল।

একদিন তিনি নিজ বাগানে পায়চারী করে বেড়াচ্ছেন। এই সময় জনৈক স্পেনীয় যুবক আকস্মিকভাবে তার বাগানে ঢুকলো এবং তার পায়ে পড়ে জীবনের নিরাপত্তা চাইল।

শেখ তাকে টেনে তুললেন এবং কারণ জানতে চাইলেন। যুবক বললো, “মহানুভব শেখ, পথিমধ্যে এক যুবকের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আমি ক্রোধে দিশাহারা হয়ে তার মাথায় একটা আঘাত করলাম। যুবকটি তৎক্ষনাত মারা গেল।

তার সঙ্গীরা আমাকে ধাওয়া করেছে। আমি জীবনের নিরাপত্তার জন্য পালাচ্ছিলাম। আপনার দরজাটা খোলা দেখে ঢুকে পড়েছি। ঐ ওরা ধেয়ে আসছে। ওদের কোলাহল শোনা যাচ্ছে। দোহাই আপনার, আমাকে প্রাণে বাঁচান।”

এই কথা বলে যুবকটি পুণরায় শেখের পা জড়িয়ে ধরলো। সরদার এবারও তাকে টেনে তুললেন এবং বললেন, “তোমাকে নিরাপত্তা দিচ্ছি। কেউ তোমার কিছু করবে না। এসো আমার সঙ্গে।”

অতঃপর তিনি যুবকটিকে তার বাড়ীর একটি গোপন কক্ষে সবার অলক্ষ্যে তালা দিয়ে রাখলেন।

যুবককে নিরাপদ কক্ষে তালাবদ্ধ করে বাগানে ফিরে আসতেই তিনি দেখতে পান একটি অকল্পনীয় দৃশ্য।

তারা এক সুন্দর সুঠামদেহী যুবকের সদ্য মৃত লাশ ধরাধরি করে নিয়ে এসেছে। লাশ দেখে সরদার এক প্রচন্ড আর্তচিৎকার দিয়েই সটান হয়ে পড়ে গেলেন।

কারণ যুবকটি ছিল তাঁরই একমাত্র পুত্র সন্তান। উত্তেজিত জনতার মধ্য হতে একজন বললো, “মান্যবর শেখ, একটা বখাটে স্পেনীয় যুবক এই হত্যাকান্ডটা ঘটিয়েছে। সে এই পর্যন্ত এসে উধাও হয়ে গিয়েছে।

আমরা তাকে ধাওয়া করে এসেছিলাম। কিন্তু ধরতে পারলাম না।”

সরদার নিঃসন্দেহে বুঝতে পারলেন যে, তাঁর আশ্রিত যুবকই তাঁর প্রাণপ্রিয় সন্তানকে হত্যা করেছে। জনতা তাঁর সমস্ত বাগান তন্নতন্ন করে খুঁজলো। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পেল না।

অবশেষে তারা নিরাশ হয়ে শেখকে স্বান্তনা দিয়ে চলে গেল।

আশ্রিত যুবকটি তার কক্ষ হতে এসব কিছু দেখলো এবং শুনলো। সে উপলব্ধি করতে পারলো যে, তার মৃত্যু আসন্ন। সে তার গোপন কক্ষে চরম আতংকের মধ্যে সময় কাটাতে লাগলো।

লাশটি যথারীতি গোসল, কাফন ও জানাযা শেষে সমাহিত করা হলো। শেখের বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেল। এই কান্না ও আহাজারীর মধ্য দিয়ে কখন সন্ধ্যা হয়ে গেল কেউ জানে না।

সন্ধ্যা ক্রমশ গাঢ় হয়ে এলো। রাত গভীর হতে গভীরতর হলো। বাড়ীর লোকজন কান্নাকাটি করে ক্লান্ত হয়ে এক সময়ে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লো। কিন্তু সরদারের চোখে ঘুম নেই।

তিনি তার বিছানা থেকে উঠলেন, ধীর পায়ে অপরাধী যুবকের কক্ষের কাছে গেলেন এবং তার দরজার তালা খুলে দিলেন। তখন ভয়ে কম্পমান যুবককে লক্ষ্য করে তিনি বললেনঃ “তোমার ভয়ের কোন কারণ নেই। তুমি আমার মেহমান।

মুসলমান প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না। এই নাও, এই পোটলায় তোমার পথে খাওয়ার জন্য কিছু খাবার আছে। আর আস্তাবল হতে একটি ঘোড়া নিয়ে এখনি এখান হতে বিদায় হও।

আমার ভয় হয়, কখন আবার শয়তানের কুপ্ররোচণায় বিদ্রোহী হয়ে তোমাকে হত্যা করে বসি।”

সীমাহীন কৃতজ্ঞতায় অশ্রুভরা চোখে যুবক তাকালো শেখের দিকে। অতঃপর সালাম জানিয়ে ঘোড়া হাঁকিয়ে দ্রুত চম্পট দিল।

No comments

Powered by Blogger.